ণত্ব ও ষত্ব-বিধান

ণত্ব ও ষত্ব-বিধান

    • ণত্ব-বিধান :” →যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে। অর্থাৎ তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান। যেমন : ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
    • ষত্ব-বিধান : ” → যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয় তাকে ষত্ব-বিধান বলে। অর্থাৎ তৎসম শব্দের বানানে ষ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষত্ব-বিধান। যেমন— বিষ, কৃষক, বর্ষণ, আষাঢ়, আভাষ ইত্যাদি।


→ See Video

ণত্ব-বিধানের নিয়মাবলি
    • **→সাধারণভাবে তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ –এর পর মূর্ধন্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হবে।→অরণ্য, উদাহরণ, চারণ, ধারণ, প্রেরণা, অরুণ, করণ।
    • **→‘র’ = র, ঋ, রেফ (), ঋ-কার (ৃ), র-ফলা () অথবা ‘ষ’-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ) এবং প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ ং এই বর্ণগুলাের ব্যবধান থাকে। তবে তার পরেও মূর্ধন্য ণ হবে। যেমন : অর্পণ।
    • **→ তবে এই নিয়মের (উপরুক্ত ২টি নিয়মের) কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে→আয়ুষ্মান, গরীয়ান, চক্ষুষ্মান, নির্গমন, বহির্গমন, শ্রীমান, বর্ষীয়ান, পূষন ইত্যাদি।
    • **→ট-বর্গের ট ঠ ড ঢ- এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ন ধ্বনি থাকে এবং ঐ ন সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি করে তাহলে সর্বদা তা মূর্ধন্য হবে । যেমন কণ্টক, অগ্নিকাণ্ড, চণ্ডী, প্রচণ্ড, বণ্টন ইত্যাদি
    • **→পরি, প্ৰ, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ন-ধ্বনি মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন : পরিণত পরিণাম প্রণয় প্রণিধান প্রণােদিত প্রবীণ ব্যতিক্রম : পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন।
    • **→ উত্তর, পর, পার, চান্দ্র, নার, রাম শব্দের পরে ‘অয়ন’ শব্দ আসলে দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়। উদাহরণ : উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, পার + অয়ন = পারায়ণ, চান্দ্র + অয়ন = চান্দ্রায়ণ ইত্যাদি।
    • **→অপর, পরা, পূর্ব, প্ৰ- এই পূর্বপদের পর অহ্ন শব্দ বসলে দন্ত্য ন-এর স্থানে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন : প্র + অহ্ন = প্রাত্ন, অপরাত্ন ইত্যাদি।
    • **→ত থ দ ধ— এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ন ধ্বনি থাকে এবং ওই ‘ন’ সহযােগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয়, তা হলে সেই যুক্তব্যঞ্জনে দন্ত্য ন হবে। উদাহরণ : অন্ত, প্রান্ত; পন্থা; অন্দর, ছন্দ, বন্ধ, বন্ধন ইত্যাদি।
    • **→ণত্ব-বিধান বিদেশি শব্দ অথবা বিদেশি নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য নয়। উদাহরণ : গ্রিন, আলবেরুনি, ব্রেইন, ড্রেইন, ইস্টার্ন
    • **→খাঁটি বাংলা শব্দে ও তদ্ভব শব্দে সর্বদা দন্ত্য ন হবে। যেমনঃ কাকন, কান ইত্যাদি
    • **→ক্রিয়াপদে সর্বদাই ‘ন’ হয়। যেমন: করেন, করুন, ধরুন, ধরেন, মারেন ইত্যাদি।
    • **→ ময়ট (ময়) প্রত্যয়ের ম-যোগে ত স্থানে যে ‘ন’ হয় তা মূর্ধন্য ণ হবে না। মৃন্ময় (মৃৎ+ময়)


→ See Video

ষত্ব-নিয়ম
  • **→ঋ বা ঋ-কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমনঃ কৃষক কৃষি ।
  • **→ রেফ-এর পর মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমনঃ আকর্ষণ, পার্ষদ, বর্ষীয়
  • **→অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির এবং ক ও র-এর পরের বিভক্তি বা প্রত্যয়ে স থাকলে তা ষ হয়। যেমনঃ ভবিষ্যৎ
  • **→সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর মূর্ধন্য ষ হয়, কিন্তু সম্ভাষণসূচক স্ত্রীবাচক শব্দে আকারের পর দন্ত্য স হয়। যেমন : কল্যাণীয়েষু, প্রিয়বরেষু
  • **→ক খ প ফ – এদের আগে ইঃ (বা িঃ ) অথবা উঃ (ুঃ) থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গের জায়গায় সর্বদা মূর্ধন্য ষ বসবে। যেমন : আবিঃ + কার = আবিষ্কার
  • **→ ট, ঠ – এই দুটি বর্ণের পূর্বে সর্বদা ষ হবে;যেমন : অনিষ্ট অদৃষ্ট অনাবৃষ্টি
  • **→স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় এমন শব্দ । যেমন : আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ ইত্যাদি
  • **→সংস্কৃত ‘সাৎ প্রত্যয়যুক্ত পদে ষ হয় না। যেমন : অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
  • **→ আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি শব্দে কখনাে মূর্ধন্য-ষ হবে না, যেমন : নকশা, মুশকিল, শয়তান

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most popular

Most discussed