শব্দ (বিস্তারিত আলোচনা)

 

শব্দ (বিস্তারিত আলোচনা)

আমরা মনের ভাব প্রকাশের জন্য কত কথাই না বলি, প্রত্যেক কথার কোনো না কোনো অর্থ বিদ্যামান আছে, কিন্তু কিছু কথা আছে যাদের কোনো অর্থ নেই , যে সকল কথার অর্থ বিদ্যামান আছে তাকে আমরা শব্দ বলবো । অর্থাৎ সকল অর্থবোধক ধ্বনিকে শব্দ বলে।

বিষয় সংজ্ঞা বিশ্লেষণ উদাহরণ
তৎসম শব্দ : তৎসম অর্থ সংস্কৃতের সমান ।

যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিতভাবে

বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ১০০টি শব্দের মধ্যে ৪৪টি শব্দ (প্রায়) তৎসম শব্দ । যেমন- কর্ম, বর্ম, লাভ, ক্ষতি, গমন, ভােজন, হস্ত, লতা, ধর্ম,শয়ন, যুক্তি, শক্তি, ভক্তি, পদ, মস্তক, বক্ষ, চক্ষু, সন্ধ্যা, চন্দ্র প্রভৃতি।
অর্ধ-তৎসম শব্দ : যে সকল শব্দ সংস্কৃত শব্দ থেকে কিছুটা পরিবর্তন

হয়ে বাংলা ভাষায় আগত, তাদের অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।

→ See Video যেমন-সত্য > সত্যি; মহােৎসব > মােচ্ছব; বৈষ্ণব > বােষ্টম; ক্ষুধা > খিদে; মহার্ঘ > মাগগি; নিমন্ত্রণ > নেমন্তন্ন; গৃহিণী > গিন্নী; গাত্র > গতর; শ্রাদ্ধ > ছেরাদ্দ; কৃষ্ণ > কেষ্ট; পুরােহিত > পুরুত প্রভৃতি।
তদ্ভব শব্দ : তদ্ভব অর্থ সংস্কৃত হতে উৎপন্ন।

যে সকল শব্দ সংস্কৃত শব্দ থেকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন

হয়ে বাংলা ভাষায় আগত, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে।

→ See Video হস্ত→ হাত, চন্দ্র→ চাঁদ, ভক্ত→ ভাত, পাদ→ পা, কার্য→ কাজ, অদ্য→ আজ, কর্ণ→ কান, দহি→ দই
দেশি শব্দ : এদেশের আদিবাসীদের যে সকল শব্দ বাংলা

ভাষায় স্থান পেয়েছে , এদেরকে দেশি শব্দ বলে।

→ See Video যেমন- চেঁকি, ঢােল, ডাব, কুড়ি, পেট, চোঙ্গা, মেকি, যাঁতা, বাদুড়, বােঝা, টোপর, ডিঙ্গা, খােসা, ছাই, চুলা, খড়, খুকি, কুলা, মই, ইত্যাদি।
বিদেশি শব্দ : যে বিদেশি শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে

নিয়েছে এগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।

নিমে বাংলা ভাষায় প্রচলিত কতিপয় বিদেশি শব্দের উদাহরণ দেওয়া হল → See Video
আরবি শব্দ : ওজন, কদর,কুলসুম, কসাই, কসুর, কাফন, কাবাব,

কাফরি, কামিজ, কায়দ-কুলুপ, কেচ্ছা, কেল্লাফতে,

খতিয়ান, খবর, খসড়া, খাজনা, খাতিব, খারাপ, খালাশ,

মশগুল, মালুম, মহকুমা, মহড়া, মামলা, মুনসেফ, মুনাফ,

মুরিদ, মুলতবি, মুলুক, মৌলবি, মুশকিল, মিছিল, মুসাফির,

ওয়ারিশ, মােসাহেব, মৌসুমি, রফা, রায়, লাখেরাজ, লায়েক,

লেফাফা, লােকসান, শয়তান, শরবত, শহিদ, সফর, সবুর,

সাবেক, সাহেব, সুলতান, সেরেফ, হাওয়া, হাওলাত, হাকিম,

হামলা, হারাম, হালুয়া, হুকুম, হুলিয়া, হেফাজত গরিব, গজল,

গলদ, গামার, জমায়েত, জরিপ, জলদি, জলসা, মুহুরি,

মােকদ্দমা, মােলায়েম, কবর, কষ, কেবলা, কবুল, কলপ,

কামাল, কাজিম, অন্দর, অজুহাত, আক্কেল, আজব, আতর,

আদব-কায়দা, আদালত, আবির, আমল, আমলা, আমানত,

আলখেল্লা, আয়েশ, আরশ, আলাদা, আসবাব, আসল,

আসামি, ইজারা, ইদ, ইনকিলাব, ইনাম, ইমন, ইমারত,

ইশতেহার, ইশারা, ইস্তফা, ইহুদি, উকিল, উজির, উসুল,

এজলাস, এজাহার, এলাকা, জল্লাদ, জুলুম, জালিয়াত,

জিনিস, জাহাজ, জৌলুস, তকলিফ, তকদির, তদারক,

তালিকা, তদবির, তলব, তবলা, তফাৎ, তারিখ, তারিফ,

তহবিল, তাক, তালাক, তুফান, তুলকালাম, দখল, দলিল,

দাখিল, দোয়া, দালাল, দায়রা, দোয়াত, দুনিয়া, দৌলত,

নকল, নকশা, নগদ, নবাব, ফকির, ফতুর, ফয়দা, ফানুস,

ফসল, ফিকির, ময়দান, মল্লিক, ইত্যাদি



ফারসি শব্দ: খুশকি, খুচরা, খুন, খুনি, খালাসি, কুশি, খােয়াব, খােদা,

গল্প, গরম, গর্দব, গালিচা, গােয়েন্দা, গােলাপ, গ্রেপ্তার,

চশমখাের, চশমা, চাকর, চাকরি, চর্বি, চিজ, জঙ্গল,

জঙ্গি, জবানবন্দি, জাদু, জানােয়ার, জামদানি,

জিন্দাবাদ, জিন্দেগি, জেনানা, তরমুজ, তােশক,

আমেজ, আফগান, আমদানি, আকত, আঙুর, আলু,

আসমান, আস্তানা, ইসবগুল, ইয়ার একতারা, কাগজ,

বিনা, বুলবুল, বেতার, মজুর, ময়দা, মরিচ, মরদ,

মাহিনা, মেথর, মােরগ, তােশামােদ, দপ্তর, আইন,

আওয়াজ, আচার, আজাদ, আতশবাজি, আরাম,

আদমশুমারি, আয়না, রুমাল, কামান, কারখানা,

কারচুপি, কারবার, কারসাজি, বন্দি, বাগান, বাগিচা,

বাজিকর, বাজেয়াপ্ত, বাদশাহি, বিরিয়ানি, রশিদ,

রাহাজানি, লঙ্গরখানা, লালা, শরম, সানাই, সদাগরি,

সবজি, সফেদ, সরকার, সরাইখানা, সাজা, সুপারিশ,

হাঙ্গাম, হামেশা, হুঁশিয়ারি কারিগর, কিংখাব,

কিনারা, খরগােশ, খরিদ, খানদানি, খানসামা,

দরকার, দরখাস্ত, দর-দালাল, দরবার, দরিয়া,

দামামা, দারােগা, দালান, দোকান, নমাজ, নরম,

নফর, নবিশ, নমশ, পয়জার, পয়মাল, পরি,

পেয়াদা, পাঞ্জাবি, পালােয়ান, পােলাও, ফরমান,

ফরিয়াদ, বুনিয়াদ, ইত্যাদি।

তুর্কি শব্দ : বাবা, বাবুর্চি, খান, খাতুন, খােকা, চকমচ, চাকু,

চোগা, ঠাকুর, বেগম, বন্দুক, মুচলেকা, লাশ,

সওগাত, বিবি, আলখেল্লা, উজবুক, উর্দি, উর্দু,

কঞ্চি, কাঁচি, কাবু, কুরনিশ, কুলি, কোর্মা,

তােপ, তােশক, ইত্যাদি।

পর্তুগিজ শব্দ : ইংরেজ, ইস্তিরি, কেদারা, ক্রুশ, কেরানি,

কামরা, কামিজ, গামলা, গুদাম, পাউরুটি,

পেয়ারা, পেরেক, পাদরি, আতা, আয়া,

আনারস, আচার, আলপিন, আলমারি,

ইস্পাত, পিস্তল, ফিরিঙ্গি, পাচার, টুপি,

মিস্ত্রি, মাস্তুল, গরাদ, গির্জা, চাবি, জানালা,

তামাক, তােয়ালে, নিলাম, নােনা, বারান্দা,

বালতি, বােতাম, বেহালা, বােমা, মার্কা,

সাগু, সাবান, সালসা ইত্যাদি।

ফরাসি শব্দ : দিনেমার, আঁতাত, কুপন, রেস্তোরাঁ,

ম্যাটিনি, গ্যারেজ, বুর্জোয়া, কার্তুজ,

ক্যাফে, ওলন্দাজ ইত্যাদি।

জাপানি শব্দ : হাসনাহেনা, ক্যারাটে, জুডাে,

সাম্পান রিক্সা, হারিকিরি ইত্যাদি।

হিন্দি শব্দ : চামেলি, চাহিদা, চৌধুরি, টহল, ডেমরা,

ছিনতাই, কাহিনি, ডেরা, তরকারি, কমলা,

ফালতু, দাদা, আবছা, খানাপিনা, চনাচুর,

ঠান্ডা, পানি, সাচ্চা, সাথি, ওয়ারা, নানা, নানি

ওলন্দাজ শব্দ: রুইতন, তরুপ, হরতন, ইস্কাপন ইত্যাদি।
বর্মি শব্দ : নাপ্পি, প্যাগােডা, লুঙ্গি, ফুঙ্গি


গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল
গ্রিক শব্দ : দাম, কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ।
ইংরেজি শব্দ : জিরাফ, জ্যাকেট, টিপাই, জাঁদরেল,

পাউডার, রেডিও, সার্কাস, সান্ত্রি, টেবিল,

টেন্ডার, আগ্রাসন, আস্তাবল, পুলিশ,

নিব, পেন্সিল, বােনাস, এজেন্ট, কংগ্রেস,

কফি, কমা, ক্যাপ্টেন, কেটলি, চেক,

সেমিকোলন, হাসপাতাল, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি।

মিশ্র শব্দ : দুটি ভিন্ন ভাষার মিলনে যে শব্দের সৃষ্টি হয়েছে।

এই শব্দকে মিশ্রশব্দ শব্দ বলে। যেমন- খ্রিষ্টাব্দ

(তদ্ভব + তৎসম), ডাক্তারখানা (ইংরেজি + ফারসি),

পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা), আইনজীবী

(ফারসি + তৎসম), চৌহদ্দি (ফারসি + আরবি),

হেডপণ্ডিত (ইংরেজি + তৎসম), মাস্টারমশাই

(ইংরেজি + তদ্ভব), শাকসবজি (তৎসম + ফারসি),

রাজা-বাদশা (তৎসম – ফারসি), হাট-বাজার

(বাংলা + ফারসি), হেড-মৌলবি (ইংরেজি + ফারসি),

শ্রমিক-মালিক (তৎসম + আরবি)।

পারিভাষিক শব্দ : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের ভাবানুবাদ

প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে।

যেমন- নথি (File), ব্যবস্থাপক (Manager), স্নাতক (Graduate), উদ্যান (Hydrogen), প্রশিক্ষণ (Training), সমীকরণ (Equation), অম্লজান (Oxygen), বেতার (Radio) ।
মৌলিক শব্দ : উদাহরণ- পুষ্প, পরাগ, গােলাপ, হাত ইত্যাদি।
সাধিত শব্দ : মৌলিক শব্দ/ধাতুর সাথে প্রত্যয়,

উপসর্গ বা সমাস নিষ্পন্ন হয়ে নতুন

শব্দের সৃষ্টি হলে, তাকে সাধিত শব্দ বলে ।

উদাহরণ- দিন + ইক = দৈনিক, মনু + অ = মানব, প্র + ভাত = প্রভাত, তিন ভুবনের সমাহার = ত্রিভুবন।
যৌগিক শব্দ : যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও

প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে,

তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন- কৃ + তব্য = কর্তব্য (যা করা উচিত), বাবু + আনা = বাবুয়ানা (বাবুর ভাব), দুহিতা + য = দৌহিত্র (কন্যার পুত্র)। তাছাড়া নায়ক, নয়ন, শয়ন, বাঁদরামি, ভাড়াটে, চিকামারা, গায়ক, মধুর ইত্যাদি।
রূঢ়ি শব্দ : যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযােগে

গঠিত হয় এবং মূল শব্দের অর্থের

অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট

অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি

শব্দ বা রূঢ় শব্দ বলে।

পাঞ্জাবি, প্রবীণ, হস্তী, সন্দেশ, গবেষণা, গালি, কুশল, হরিণ, ঝি ইত্যাদি।
যােগরূঢ় শব্দ : সমাস নিষ্পন্ন যে সব শব্দ সম্পূর্ণভাবে

সমস্যমান পদসমূহের অর্থের অনুগামী

না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে,

তাদের যােগরূঢ় শব্দ বলে।

যেমনপঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে যা। বিশেষ অর্থে- পদ্ম। রাজপুত রাজার পুত। বিশেষ অর্থে-জাতিবিশেষ। মহাযাত্রা মহাসমারােহে যাত্রা। বিশেষ অর্থে-মৃত্যু। তাছাড়া আদিত্য, তুরঙ্গম, জলধি, দশানন ইত্যাদি।

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most popular

Most discussed