বাংলা ব্যাকারণ

ব্যাকারণ
ব্যাকারণ হচ্ছে একটি ভাষার পথ প্রদর্শক কেননা ভাষার জ্ঞান কোনোভাবেই পূর্ণতা পায় না, যদিনা ব্যাকারণ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন না করে । তাই ভাষার দক্ষতা অর্জনের জন্য অবশ্যই ব্যাকারন সম্পর্কে জানতে হবে । ভাষাবিদ্গণ বিভিন্ন ভাবে ব্যাকরণ সংজ্ঞায়িত করেছেন নিম্নে তা তুলে ধরা হলো ।

ব্যাকরণের সংজ্ঞা: যে-গ্রন্থ কোনও ভাষাকে সম্যক বিশ্লেষণ করে তার গঠন-প্রকৃতি ও স্বরূপকে চিনিয়ে দেয়, তাকে শুদ্ধভাবে প্রয়ােগ ও ব্যবহার করতে শেখায়, তাকে সে ভাষার ব্যাকরণ বলে। অর্থাৎ ব্যাকরণ হল, ‘ভাষার বিশ্লেষণ, প্রকৃতি ও প্রয়ােগরীতি ও স্বরূপ আলােচনা ও ব্যাখ্যা করে এমন শাস্ত্র।

    • “ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,” → যে বিদ্যার দ্বারা কোনও ভাষাকে বিশ্লেষণ করিয়া তাহার স্বরূপটি আলােচিত হয়, এবং সেই ভাষার পঠনে ও লিখনে এবং তাহাতে কথােপকথনে শুদ্ধরূপে তাহার প্রয়ােগ করা যায়, সেই বিদ্যাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ (Grammar) বলে।’
    • “মুনীর চৌধুরী ও মােফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মতে,” → ‘যে শাত্রে কোনাে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের প্রকৃতি ও স্বরূপের বিচার বিশ্লেষণ করা হয় এবং বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্ক নির্ণয় ও প্রয়ােগবিধি বিশদভাবে আলােচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলে।
    • “ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর (১৮৮৫-১৯৬৯) মতে,” → যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায় তাহার নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
    • “ড. সুকুমার সেন-এর (১৯০০-১৯৯২) মতে,” →কোন ভাষার উপাদান সমগ্রভাবে বিচার ও বিশ্লেষণ যে বিদ্যার বিষয় তাহাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে।
    • “ড. মুহম্মদ এনামুল হকের (১৯০২-~-৮২) মতে,” → যে শাত্রের দ্বারা ভাষাকে বিশ্লেষণ করিয়া ইহার বিবিধ অংশের পারস্পরিক সম্বন্ধ নির্ণয় করা যায় এবং ভাষা রচনাকালে আবশ্যকমত সেই নির্ণীত তত্ত্ব ও তথ্য প্রয়ােগ সম্ভবপর হইয়া উঠে, তাহার নাম ব্যাকরণ।


→ See Video

ব্যাকারণ পাঠের প্রজনীয়তাঃ-
    • **→ব্যাকরণ কোনাে ভাষাকে বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করে। যে কোনাে ভাষার বিধি-বিধানের নিয়ামক হল ব্যাকরণ। তাই ব্যাকরণকে ‘ভাষা সংবিধান’ বলা হয়।
    • **→ ব্যাকরণ পাঠ করে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠন-প্রকৃতি ও সে-সবের সুষ্ঠু ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং লেখায় ও কথায় ভাষা প্রয়ােগের সময় শুদ্ধি-অশুদ্ধি নির্ধারণ সহজ হয়।
    • **→ভাষার সৌন্দর্য অনুধাবনের জন্যেও সেই ভাষার ব্যাকরণ পাঠ অবশ্য কর্তব্য।
    • **→ব্যাকরণের তত্ত্ব ও তথ্য সম্পর্কে উপযুক্ত জ্ঞান না থাকলে ভাষাগত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
    • **→ভাষার সামগ্রিক রূপকে বােধের উপযােগী করে তােলা ব্যাকরণ শিক্ষার লক্ষ্য। বাংলা ব্যাকরণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযােজ্য।
    • **→সাহিত্যরসিকদের মতে সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে হলে পুরােপুরি সে রস গ্রহণ করতে হয়; ব্যাকরণ সে রস গ্রহণের সহায়ক।
    • **→ব্যাকরণ পাঠে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্বেচ্ছাচারিতা রােধ হয়, ফলে ভাষার বিশুদ্ধতাও রক্ষা পায়।

→ See Video

ব্যাকারণ এর প্রকারভেদঃ-

ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে বাংলা ব্যাকরণ তিন প্রকারের : (ক) ঐতিহাসিক ব্যাকরণ, (খ) তুলনামূলক ব্যাকরণ ও (গ) ব্যবহারিক ব্যাকরণ। কিন্তু ব্যাকরণের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। ব্যাকরণকে চার ভাগে ভাগ করেছেন, যথা : ক. বর্ণনাত্মক ব্যাকরণ (Descriptive grammar) খ. ঐতিহাসিক ব্যাকরণ (Historical grammar) গ. তুলনামূলক ব্যাকরণ (Comparative grammar) ঘ. দার্শনিক-বিচারমূলক ব্যাকরণ (Philosophical grammar)।

  • “ক. বর্ণনাত্মক ব্যাকরণ : “→বিশেষ কোনাে কালে বা যুগে, কোনাে একটি ভাষার রীতি ও প্রয়ােগ ইত্যাদি বর্ণনা করা এ ধরনের ব্যাকরণের বিষয়বস্তু এবং সেই বিশেষ কালের ভাষা যথাযথ ব্যবহার করতে সাহায্য করা এর উদ্দেশ্য।
  • “খ. ঐতিহাসিক ব্যাকরণ :”→ একটি ভাষার উৎপত্তি থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সে ভাষার ক্রমবিকাশের ইতিহাস পর্যালােচনা করা এর লক্ষ্য।
  • “গ. তুলনামূলক ব্যাকরণ :”→ যে শ্রেণির ব্যাকরণ কোনাে বিশেষ কালের বিভিন্ন ভাষার গঠন, প্রয়ােগরীতি ইত্যাদির তুলনামূলক আলােচনা করে থাকে, তা-ই তুলনামূলক ব্যাকরণ।
  • “ঘ. দার্শনিক-বিচারমূলক ব্যাকরণ :”→ভাষার অন্তর্নিহিত চিন্তাপ্রণালিটি আবিষ্কার ও অবলম্বন করে সাধারণভাবে কিংবা বিশেষভাবে ভাষার রূপের উৎপত্তি ও বিবর্তন কীভাবে ঘটে থাকে, তার বিচার করা এর উদ্দেশ্য।

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most popular

Most discussed